হয়রানির ভয়ঙ্কর অস্ত্রে পরিণত হয়েছে ‘ইয়াবা’

নিরীহ মানুষকে হয়রানির ভয়ঙ্কর অস্ত্রে পরিণত হয়েছে ‘ইয়াবা’। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায়ই পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে দিয়ে নিরীহ নিরপরাধ মানুষকে হয়রানির ঘটনা ঘটছে।

আর এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছে কতিপয় অসাধু পুলিশ সদস্য ও তাদের ফর্মাররা (সোর্স)। ফর্মাররা রীতিমতো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। পুলিশের সহযোগিতায় এরা অবাধে চালিয়ে যাচ্ছে মাদক ব্যবসা আর ‘ফিটিং বাণিজ্য’।

এদের তৎপরতার কারণে একদিকে দ্রুতগতিতে বাড়ছে ইয়াবার প্রসার- অন্যদিকে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। মাঝেমধ্যে জনতার হাতে পাকড়াও হচ্ছে, এসব ফর্মার ও পুলিশ সদস্য।

কামরাঙ্গীরচরের কুড়ারঘাট এলাকার কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী ইয়াকুব। ফর্মার নামেই এলাকায় তার পরিচিতি। এলাকায় দাপটের সঙ্গেই মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, ৭ মার্চ সকালে সোর্স ইয়াকুব ও কামরাঙ্গীরচর থানার এসআই রায়হান মণ্ডল সাব্বির নামে এক যুবককে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অনীহা প্রকাশ করতেই পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে দিয়ে তাকে মারধর করে।

এদিকে এলাকাবাসী খবর পেয়ে ইয়াকুব ও এসআই রায়হান মণ্ডলকে আটক করে। পরে থানা পুলিশ ও স্থানীয় নেতারা এসে তাদেরকে উদ্ধার করে। পুলিশ ও সোর্সের এমন জঘন্য কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে স্থানীয় জনতা বিক্ষোভ মিছিল করে। সাব্বিরের মা বলেন, পুলিশ ও সোর্সসহ দু’জন বাসা থেকে ডেকে এনে সাব্বিরের কাছে টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে মামলা দেয়ার হুমকি দেয়। পরে বেধড়ক পিটিয়ে তাকে আহত করে।

কুড়ারঘাট এলাকায় সোর্স ইয়াকুবসহ জনতার হাতে আটক হওয়ার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে এসআই রায়হান মণ্ডল বলেন, আমি একটু কাজে আছি, বিস্তারিত পরে বলছি। এরপর ফোন কেটে দেন তিনি।

এ ব্যাপারে কামরাঙ্গীরচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন ফকির বলেন, ইয়াকুব খুবই খারাপ লোক। সে এলাকায় ইয়াবার ব্যবসা করে। তাকে ধরে আমরা চালান দিয়েছি। তবে এ এঘটনার সঙ্গে রায়হান মণ্ডল জড়িত থাকার কথা এবং তাকে ওসি নিজে সেইভ করার কথা এড়িয়ে যান তিনি।

শুধু এ ঘটনাই নয়, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও তাদের ফর্মারদের বিরুদ্ধে ইয়াবা দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। গ্রামে-গঞ্জে এখন ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর ঘটনা অহরহ ঘটছে। কখনও কখনও সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলেই তা প্রকাশ পায়। নতুবা আড়ালেই থেকে যায় এসব অপরাধ। গত বছরের ১২ আগস্ট রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে টাকা আদায়ের সময় পুলিশের সোর্সসহ দু’জনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে এলাকাবাসী। এরা স্থানীয় এক ব্যক্তির বাসায় ঢুকে টাকা দাবি করছিল। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় পকেটে ইয়াবা দিয়ে মারধর করছিল। এছাড়া গত বছরের ১৭ জুন পিকুল নামের এক মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীকে ডেকে নিয়ে পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগে যশোরের সাতমাইল বাজারে সিরাজুল ইসলাম নামের এক পুলিশ সদস্যকে গণধোলাই দেয় স্থানীয় জনতা।
এর আগে ২৭ জুন রাত ১২টার পর টহল পুলিশের একটি দল শান্তিনগর কাঁচাবাজারের কাছে ফটো সাংবাদিক আশিকের মোটরসাইকেল থামায়। সেখানে তার সঙ্গে পুলিশের কথাবার্তা এবং তর্কবিতর্ক হয়। এরপর পুলিশ তার পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে তাকে মাদক মামলা দিয়ে কোর্টে চালান দেয়। ২০১৬ সালের নভেম্বরে পটিয়া থানার এসআই নাদিম মাহমুদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে ইয়াবা দিয়ে নিরীহ মানুষকে ফাঁসিয়ে টাকা আদায় করার। এরা বিভিন্ন সময় লোকজনকে পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে দিয়ে ফাঁদে ফেলে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের তালিকায় খোদ রাজধানীতেই ২ হাজারের বেশি পুলিশের সোর্স রয়েছে- যারা পেশাদার অপরাধী।

আপনি কি পড়েছেন?

পরীক্ষা ছাড়াই অভ্যন্তরীণ বিজ্ঞপ্তিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগ

ওপেন বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগের কারণে যেহেতু আন্দোলন হয়েছে, তাই এখন থেকে অভ্যন্তরীণ বিজ্ঞপ্তির …